English Version
আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৬:২৪

প্রধানমন্ত্রী কাঁদলেন, অন্যদেরও কাঁদালেন

অনলাইন ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী কাঁদলেন, অন্যদেরও কাঁদালেন

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দুঃখ-কষ্ট দেখে তাদের সঙ্গে কথা বলে কাঁদলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর তাঁর কান্না দেখে উপস্থিত অন্যদেরও চোখের পানি মুছতে দেখা যায়। আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গিয়ে তাদের অবস্থা দেখে তাদের সঙ্গে কথা বলে নিজের চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি তিনি। রোহিঙ্গাদের কষ্টের কথা শুনে আবেগে নারী-শিশুদের জড়িয়ে ধরেন শেখ হাসিনা। পরম মমতায় তাদের বুকে টেনে নেন। আশ্রয় নেওয়া অসহায় রোহিঙ্গা নাগরিকরা তাদের ভাষায় প্রধানমন্ত্রীকে দুঃখ-কষ্টের কথা বলেন। একজন দোভাষি পারস্পরিক কথাবার্তায় সহযোগিতা করেন। তখন পুরো এলাকায় এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। এই সময় তিনি তাদের মধ্যে ত্রাণ সহায্যও বিতরণ করেন। তখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব সুরাইয়া বেগম, প্রেস সচিব ইহসানুল করিমসহ অন্যান্য কর্মকর্তারাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।
এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তার ছোট বোন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানা, শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববির স্ত্রী পেপি সিদ্দিক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, হুইপ ইকবালুর রহিম, কক্সবাজার-৩ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, সংসদ সদস্য আবু রেজা মোহাম্মদ নিজামউদ্দিন নদভী, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব শফিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, সেনাবাহিনী প্রধান আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, বিজিবি’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হাসেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বজন হারানোর বেদনা আমরা বুঝি। পঁচাত্তরে বাবা-মাসহ পরিবারের সবাইকে হারিয়ে আমাদেরকেও রিফিউজি হিসেবে বিদেশে থাকতে হয়েছে। একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আমাদের ওপর এভাবেই অত্যাচার-নির‌্যাতন চালিয়েছিল, আমাদের ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছিল। আমাদের দেশের মানুষকেও ভারতে আশ্রয় নিতে হয়েছিলো। মানবিক দিক বিবেচনা করে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আজকে যারা সব হারিয়ে এখানে এসেছেন তাদের বেদনা আমরা বুঝি। আমাদের যতোটুক সাধ্য আছে, আমরা পাশে দাঁড়িয়েছি। আমাদের দেশের জনসংখ্যা অনেক বেশি। তাদের (রোহিঙ্গা) স্থান দেওয়া দুরুহ কাজ। কিন্তু মানবিক দিক বিবেচনা করে আমরা তাদের আশ্রয় দিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যতোদিন মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে না নেবে ততোদিন বাংলাদেশ তাদের পাশে আছে, সহযোগিতা করবে। আশ্রয় ও সহযোগিতা পেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান রোহিঙ্গারা। তাদের কষ্ট লাঘবে সহযোগিতা এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে মিয়ানমারে ফিরে যেতে শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভূমিকা রাখবেন বলেও মনে করেন তারা। 
এদিকে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক আলিম গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আমরা জীবন বাঁচাতে পারছি। আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে কৃতজ্ঞ। আমরা যেন মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে অধিকার নিয়ে মাতৃভূমিতে ফিরে যেতে পারি,  আমাদের ওপর যেন নির্যাতন বন্ধ হয়। আমরা চাই, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখুন।
গত ২৪ আগস্ট মিয়ানমারের পুলিশ ফোর্স ও সেনাবাহিনীর একটি ঘাঁটিতে রোহিঙ্গাদের বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) হামলার কথা তুল ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কিছু লোক ঘটনা ঘটালো, তারপর সেখান থেকে তারা চলে গেলো। এরপর সেখানে নিরীহ মানুষের ওপর অত্যাচার শুরু হলো। কিছু মানুষ ঘটনা ঘটায়, তারা তো ঘটিয়ে চলে যায়। কিন্তু ভুক্তভোগী হয় কারা? শিশু-নারী, একেবারে নিরীহ মানুষ। মিয়ানমার সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মিয়ানমার সরকারকে বলবো, তারা যেন নিরীহ মানুষের ওপর কোনো ধরনের নির্যাতন না করে। নিরীহ মানুষের ওপর নির‌্যাতন বন্ধ করতে হবে। যারা প্রকৃত দোষী তাদের খুঁজে বের করুন। এ ব্যাপারে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে যে সহযোগিতা দরকার, আমরা তা করবো। সন্ত্রাসী কার্যক্রম আমরা কখনোই মেনে নেবো না।
রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, তারা মিয়ানমারের নাগরিক, তাদেরকে ফিরিয়ে নিতে হবে, নিরাপত্তা দিতে হবে। নিজেদের নাগরিকদের অন্য দেশে আশ্রয় নিয়ে থাকা যেকোনো দেশের জন্য অসম্মানজনক। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বলবো, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে চাপ দিতে হবে। কক্সবাজারের স্থানীয়দের প্রতি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহযোগিতার আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী। অন্য যারা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ত্রাণ দিতে চায়, তাদেরকে সরকারি রিলিফ কমিটির মাধ্যমে সহযোগিতা করতে হবে বলেও জানান তিনি।